Maya Angelou
কবিতা

একাকী / মায়া অ্যাঞ্জেলো

শুয়ে শুয়ে, চিন্তা করেছি
কাল রাতে
কীভাবে পাবো আত্মার আবাস
যেখানে জল নয় তৃষ্ঞার্ত
আর রুটি নয় পাথরের মতো শক্ত
পেলাম খুঁজে একটি উপায়
আর মনে করি না আমি ভুল সে ব্যাপারে
যে কেউ না,
কেউই পারে না
কেউই পারে না করতে তা একাকী

একাকী, কেবল একাকী
কেউ না, কেউই পারে না
কেউ পারে না করতে তা কেবল একাকী

অনেক কোটিপতি আছে
অনেক টাকাই তারা করতে পারে না খরচ
তাদের স্ত্রীরা ছুটে চলে ভুতের মতো এদিকওদিক
তাদের সন্তানরা গান গায় বিষাদের
চিকিৎসক রয়েছে তাদের সত্যিই ব্যয়বহুল
করতে ভালো তাদের প্রস্তর হৃদয়
তবু কেউ না
না, কেউ না
কেউ তা করতে পারে না একাকী
একা, কেবল একাকী
কেউ না, না কেউ না
কেউই পারে না তা করতে একাকী

এখন যদি শোনো মন  দিয়ে
বলতে পারি যা জানি আমি নিজে
ঝড়ের মেঘ জমছে আকাশে
বাতাস বইবে এখুনি
ভুগছে চরমভাবে মনুষ্যজাতি
আর আমি শুনতে পাচ্ছি সেই কাতরানি
কারণ কেউ না
কেউই পারে না
কেউ পারে না করতে তা একাকী

একাকী, কেবল একেলা
কেউ না, কেউই পারে না
কেউ পারে না তা করতে একাকী

১৪.০৮.২০১৬

Standard
Maya Angelou
কবিতা

তারপরও জেগে উঠি / মায়া অ্যাঞ্জেলো

তোমরা আমাকে নিক্ষেপ করতে পারো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে
তিক্ত কথা আর বানোয়াট মিথ্যা দিয়ে
তোমরা আমাকে চিত্রিত করতেই পারো কদর্যরূপে
কিন্তু, ধূলিকণার মতোই, আমি আবার উঠব জেগে

আমার উচ্ছলতাই কি তোমাদের বিব্রত করে?
কেন তোমরা হও বিষাদে বিলীন?
কারণ আমি এমনভাবে হাঁটি যাতে মনে হয়
আমার ঘরে পেয়েছি তেলের খনি অবিরত

চাঁদ আর সূর্যের মতোই
জোয়ারের নিশ্চয়তার মতোই
আশার উত্থানের মতোই
পুনর্বার উঠব আমি জেগে

তোমরা কি আমাকে দেখতে চাও হতবিহ্বল?
নামানো মাথায় আর নামানো চোখে?
গড়ানো অশ্রুকণার মতো ভাঙা কাঁধে
আত্মার কান্নায় ক্রমশ দূর্বল হয়ে

আমার ঔদ্ধত্য কি জ্বালায় তোমাদের?
পারোনা মানতে তা কিছুতেই
কারণ আমি হাসতে থাকি, যেন
সোনার মস্ত খনি রয়েছে এই আমার উঠোনেই

তোমরা আমাকে বিদ্ধ করতে পারো তোমাদের শব্দবাণে,
তোমরা আমাকে ছিন্ন করতে পারে তোমাদের শ্যেন দৃষ্টিতে,
তোমরা আমাকে হত্যা করতে পারো তোমাদের ঘৃণায়,
তারপরও, বাতাসের মতোই, আমি আবার উঠব জেগে

আমার সৌন্দর্য জ্বালায় তোমাদের?
লাগে কি বেমানান বড় তোমাদের চোখে
নাচি আমি উল্লাসে যেন আমি পেয়েছি
হীরকখন্ড আমার দু’উরুর মাঝে?

ইতিহাসের লজ্জার ভাগাড় থেকে
আমি জেগে উঠি
বেদনার ভর অতীত থেকে
আমি জেগে উঠি
আমি এক কালো মহাসাগর, উদ্দাম ও প্রশস্ত
ফুলে উঠি আমি, ফুঁসে উঠি আমি প্রবল জোয়ারে
ভয় ও সন্ত্রাসের কালো রাত পেছনে ফেলে
আমি জেগে উঠি
এক পরিচ্ছন্ন দিনের আগমনে
আমি জেগে উঠি
নিয়ে আসি দেয়া সব উপহার আমার পূর্বপুরুষের
আমিই স্বপ্ন ও আশা এইসব ক্রীতদাসদের
আমি জেগে উঠি
আমি জেগে উঠি
আমি জেগে উঠি

মায়া অ্যাঞ্জেলোর Still I Rise কবিতার অনুবাদ

১৪.০৮.২০১৬

Standard
কবিতা

আগুন ও বরফ

Flowers & Trees

কেউ বলে পৃথিবী ধ্বংস হবে আগুনে,
কেউ বলে বরফে
আকাঙ্ক্ষার কাছ থেকে যা জেনেছি আমি
তাতে আগুনের পক্ষে আছি।
তবে এটি যদি দ্বিতীয়বার ধ্বংস হয়
তাহলে বলব ঘৃণার কিছুই আজ নয় অজানা
পৃথিবীর ধ্বংসের জন্য মন্দ নয় ঘৃণার বরফ
আগুনের বিকল্প হতেও পারে তা।

[রবার্ট ফ্রস্ট রচিত Fire and Ice কবিতার অনুবাদ]

১০.০৮.২০১৬

Standard
কবিতা

সেইসব পরিচিত মুখ

Human

কোথা গেল, সেই সব পরিচিত মুখ?
আমার একটাই মা ছিল, মারা গেল সে
চলে গেল আমাকে ফেলে
মারা গেল এক বীভৎস দিনে
সেইসব পরিচিত মুখ চলে গেছে দূরে

ছিল আমার খেলার সাথীরা, সঙ্গীসব শৈশবের
আনন্দের বিদ্যালয় দিনের
সবাই গেছে চলে, সেইসব পরিচিত মুখ

সেইসব হাসি, উল্লাস, ফূর্তি
রাত জেগে পান, দেরি করা গান
সেইসব প্রাণের ইয়ার
কেউ নেই, সব গেছে চলে

ছিল এক প্রেমিকা আমার, সুন্দরীতমা
করেছে বন্ধ দরোজা, কোনোদিন দেখব না তাকে
সেইসব পরিচিত মুখ, সব গেছে চলে

আমার এক বন্ধু ছিল খুব, একদম মাটির মানুষ
অকৃতজ্ঞের মতো আমি তারে ফেলেছি পিছনে
সেইসব পুরাতন মুখ একদম গেছি ভুলে

ভুতের মতোই আমি খুঁজে ফিরি আমার শৈশব
আমার দেখার জন্য ছিল এই মরূভূমি
ঘুরে ঘুরে খুঁজে ফিরে সেইসব মুখ

আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ভাইয়ের চেয়েও আপন!
কেন হায় জন্মাওনি আমার বাবার ঘরে?
তাহলে সেইসব মুখ নিয়ে আমরাও মাততাম খোশগল্পে

তাদের কেউ কেউ মারা গেছে, আর
কেউ কেউ ফেলে গেছে আমাকে
আমিও করেছি ত্যাগ কাউকে কাউকে
কাউকে বা সরানো হয়েছে আমার কাছ থেকে
সব গেছে চলে; সেইসব পরিচিত মুখ

চার্লস ল্যাম্ব রচিত The Old Familiar Faces কবিতার অনুবাদ

১০.০৮.২০১৬

Standard
Maya Angelou
কবিতা

পুরুষ / মায়া অ্যাঞ্জেলো

আমি যখন যুবতী, আমি
পর্দার আড়াল থেকে তাকিয়ে দেখতাম
পুরুষগণ হেঁটে যেত রাস্তায়। পুরনো, বৃদ্ধ আর
তরতরে যুবক। দেখতাম তাদের। এইসব পুরুষরা
সবসময় যাচ্ছে কোথাও না কোথাও।
তারা জানত আমি আছি সেখানে। পনের বছর বয়সী
আমি পথ চেয়ে আছি তাদের জন্য।
আমার জানালার নিচে, থেমে যেত তারা,
তাদের কাঁধ উঁচু হয়ে যেত
যুবতীর স্তনের মতো
শৃগালের লেজ ঝুলছে
পেছনের জনে,
হায় পুরুষ

একদিন তারা তোমাকে ধরবে হাতের মুঠোয়,
খুব আলতোভাবে, যাতে মনে হয়
তুমি পৃথিবীর শেষ ডিম্ব। এরপর আঁটো হয়ে আসবে মুঠো
একটু একটু করে। প্রথম সংকোচন মনে হবে সুন্দর। এরপর দ্রুত
এক সোহাগ। তোমার প্রতিরোধহীনতায় আলতো এক ছোঁয়া। আরেকটু
বেশি। শুরু এবার আঘাতের। ভয়ের বুক চিরে ভেসে ওঠে মৃদু হাসি। তারপর
বাতাস উধাও, তোমার মন উথলে ওঠে, সংক্ষিপ্ত বিস্ফোরণ, রান্নাঘরের
দেশলাইয়ের মতো। বিধ্বস্ত।
তোমারই রস বইতে থাকে
তাদের উরুর মাঝে
দাগ ফেলে তাদের জুতোয়
এরপর পৃথিবী ফিরে আসে আপন কক্ষপথে
জিহ্বায় ফিরতে চায় পুরনো সে স্বাদ,
বন্ধ হয়ে গেছে আজ তোমার শরীর। চিরকালের জন্য।
নেই কোনো চাবি।

তারপর পুরো জানালাই চেপে বসে
তোমার মনে। সেখানে, পর্দার অন্তরালে
হেঁটে যায় সেইসব পুরুষ

জেনে যায় কিছু
চলে যায় কোথাও
কিন্তু এইবার, আমি কেবল
দাঁড়াব আর দেখব

সম্ভবত।

১১.০৮.২০১৬

Standard
আত্মোন্নয়ন

নেতৃত্ব ও যোগাযোগ

সুস্পষ্ট হোন

নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে জরুরী হলো যোগাযোগ – ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ, অন্য দলের সাথে যোগাযোগ। এমন যোগাযোগ যা কোনো অস্পষ্টতা রাখে না, যখন দরকার তখনই করা যায় এবং সবপক্ষ একই জিনিস বোঝে। যোগাযোগে অদক্ষ হয়ে কেউ নেতা হয়েছেন দেখাতে পারবেন? তাই নেতা হতে চাইলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষ হোন। যোগাযোগের জন্য নিচের বিষয়গুলি মনে রাখুন:

১. ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন: আপনি কোনো টীমকে পরিচালনা করে থাকরে তাদের সাথে কথাবার্তায় ধারাবিহকতা বজায় রাখুন। সকালে এক কথা আর বিকেলে আরেক কথা বললে সেই টিম সহজেই বিভ্রান্ত হবে। অনেককেই দেখা যায় দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলান এবঙ এরকম কথায় টিমের অন্যান্যরা বিভ্রান্ত হন। তাই এরকম কোনো বিষয় কাউকে জানাতে হলে ভালভাবে ব্যাখ্যা করুন কেন আপনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন।

২. সুস্পষ্ট হোন: আপনি কী চান সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট হোন। অনেকক্ষেত্রে কূটনৈতিক ধোঁয়াশা কাজ করতে পারে, কিন্তু নিজের লোকদের সাথে এটি ব্যবহার করতে থাকলে তারা বিভ্রান্ত হতে থাকবে। তাই যা চান সুস্পষ্টভাবে বলুন, যা নির্দেশ দেন সুস্পষ্টভাবে দিন। এমন কোনো নির্দেশ দেবেন না যার একাধিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়।

৩. সৌজন্য বজায় রাখুন: সবসময় সৌজন্য বজায় রাখুন, যারা আপনার জন্য কাজ করছে তারা আপনার দাস নয়, আপনিও তাদের প্রভু নন। সৌজন্যমূলক আচরণ তাদের উজ্জীবিত করে, যা টাকা দিয়েও করা যায় না। আপনার ভদ্র ব্যবহার, সৌজন্যবোধ, মমত্ব এসবই বড় উদ্দীপক।

জন সি ম্যাক্সওয়েল

Standard
আত্মোন্নয়ন

কোন কাঁটা – ঘড়ি নাকি কম্পাস?

Science & Technology

কম্পাস নাকি ঘড়ি?

সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি এফেক্টিভ পিপল  এর লেখক স্টিভেন আর কোভে দুটি কাঁটার কথা বলেছেন: একটি ঘড়ির কাঁটা, আরেকটি কম্পাসের কাঁটা। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে অনবরত – সময়কে প্রকাশ করছে। সেকেন্ড মিনিট ঘন্টা হিসেবে আমরা মহাকালে হারিয়ে যাচ্ছি, ঘড়ির কাঁটা সেটিই প্রকাশ করছে। আমরা এই ঘড়ির কাঁটার গতিবিধি দেখে চঞ্চল হই, নিজেকে এই কাঁটার তালে মেলানোর চেষ্টা করি। ঘড়ির কাঁটা দেখে নির্ধারণ করি কখন কাজ করব, কখন বিশ্রাম নেব, আর কখন ঘুমাব।

কম্পাসের কাঁটার কাজটা আলাদা। সেটি দিক নির্দেশ করে। কাঁটার একপ্রান্ত উত্তর, আরেক প্রান্ত দক্ষিণ নির্দেশ করে। আপনি কোন দিকে যেতে চান সেটি বুঝতে সাহায্য করবে এই কাঁটা। অচেনা জায়গায় যেতে দিক বুঝতে কম্পাসের ব্যবহার। কম্পাসের কাঁটা আপনাকে এই দিক বোঝাবে। আমরা জীবনে কী করতে চাই কোনদিকে যেতে চাই সেটি যদি জানি তাহলে সেখানে যাওয়ার পথ বের করতে পারি। সেই পথকে নির্দেশ করতে পারে কম্পাসের কাঁটা। Continue reading

Standard