আত্মোন্নয়ন

থামো, গতিটা কমাও

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য যত বই দেখেছি প্রায় সবখানে একটা ছবি দেখতে পাই –  ব্রিফকেস হাতে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছে স্যুটেড বুটেড মানুষ। এটাই সাফল্যের চিত্র অনেকেই কাছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা। শুধু ওঠা নয় একরকম দৌড়ে ওঠা। আমরা প্রতিনিয়ত এরকম কর্মক্ষেত্রে দৌড়াচ্ছি, সব পেশায়, সবখানে। এই দৌড় কবে শেষ হবে বলা যাচ্ছে না – যদি না আমরা নিজেরা উপলব্ধি করি যে এটি কাজের কিছু না। দৌড়ানোর মধ্যেই সাফল্য নেই, সাফল্য হলো ফল লাভে। কচ্ছপের গতিতেও গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, কখনও কখনও খরগোশকে পেছনে ফেলে দিয়ে।

আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন যখন অনেক চাপের মধ্যে থাকেন, ছুটতে থাকেন, ডেসপারেট হয়ে যান কিছু করার জন্য তখনই বড় বড় ভুলগুলো ঘটে থাকে? আমার এমনও হয়ত হয়েছে কেউ আপনাকে চাপ দিচ্ছে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য কিংবা তার সিদ্ধান্ত কিংবা যুক্তি মেনে নেয়ার জন্য? তখন আপনি কি করেন? আপনি যদি সাফল্যের পেছনে দৌড়াতে অভ্যস্ত হন তাহলে হয়ত দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন। কিন্তু তাতে বড় ধরনের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এই ঘোড় দৌড় বন্ধের জন্য আপনাকে দুটো কৌশল নিতে হবে। প্রথমত, আপনি দৌড়ানোর গতি কমাতে পারেন। একটু স্থির হোন তারপর দেখুন বুঝুন কী ঘটছে। সব বোঝার পর আপনার সিদ্ধান্ত দিন। ধরুন আপনি সাইকেলে চড়ে বেশ দ্রুতই এগুচ্ছেন। রাাস্তার পাশ থেকে কেউ চিৎকার করে উঠল আপনার নাম ধরে। তখন কী করবেন? যদি জানতে চান বুঝতে চান কে আপনাকে ডাকছে তাহলে আপনাকে থামতে হবে। জোরে সাইকেল চালানোর সময় হুট করে ব্রেক কষলে বিপদও হতে পারে, তাই গতিটা কমিয়ে দিয়ে তারপর থামাতে হবে। থামানোর পর হয়ত আপনাকে একটু পেছনে ফিরে আসতে হবে সেই লোককে দেখার জন্য যে আপনার নাম ধরে ডাকছে। তাকে দেখে চিনতে পারেন, নাও চিনতে পারেন। না চিনলে তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তার পরিচয়। তার পরিচয় পাওয়ার পর বুঝতে পারবেন সে আপনাকে কেন ডাকছে। তার সেই উদ্দেশ্য জানলে তখন আপনি কোনো উত্তর দিতে পারবেন। হতে পারে এই ডাক নিছক কুশল বিনিময়ের জন্য, কিংবা অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। তাকে যদি কোনো তথ্য দিতে চান, সিদ্ধান্ত দিতে চান, সাহায্য করতে চান তাহলে এভাবে আপনাকে থামতে হবে। আপনার গতি কমাতে হবে। যেকোনো সময় প্রয়োজনে যাতে থামতে পারেন সেজন্যই আপনার গতিকে রাখা উচিত নিয়ন্ত্রনের মধ্যে।

আবার এমনওতো হয়, আপনি বিপুল বিতর্কের মধ্যে আছেন। তুমুল উত্তেজনার সাথে কথা বলছে কেউ। কেউ এসে হয়ত আপনাকে বলল, ‘বাংলাদেশের কোনো উন্নতিই হয়নি গত দশ  বছরে।’ আপনি জানেন এটি আবেগের কথা, যুক্তির কথা নয়। কিন্তু এই উত্তেজনার মুহূর্তে আপনি যুক্তি দিয়ে সেই ব্যক্তিকে বোঝাতে পারবেন না। আপনি যতই উন্নতির নজির উপস্থাপন করবেন ততই তার বিরোধিতা পাবেন। এরকম ক্ষেত্রে কী করতে পারেন? গতি কমানো। একটু পেছনে ফিরে আসা। বলুন, ‘আমি এ  বিষয়ে এখন কথা বলতে চাচ্ছি না। বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়নি তার প্রমাণপত্র নিয়ে একসময় আসুন, বসে  আলোচনা করা যাবে।’ এভাবে আপনি সেই মুহূর্তে পিছিয়ে আসলে সেটিই আপনাকে এগিয়ে রাখবে। দেখবেন সেই ব্যক্তির উত্তেজনা প্রশমিত হলে এটি নিয়ে আর বিতর্ক করতে আসবে না। আসলেও সব প্রমাণপত্র দেখাতে পারবে না।

জীবনের কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের গতি  কমাতে হয়; থামতে হয়। সবসময় আমরা একই বেগে ছুটে চলতে পারি না। এই গতি কমানোটা জরুরী, না কমালে বিপদ হতে পারে। আাপনি সবকিছু তুচ্ছ করে প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে গিয়ে হয়ত দেখলেন ভুল জায়গায় চলে গেছেন। কিংব এমন কিছু ফেলে গেছেন যার জন্য আবার পেছনে ফিরে আসতে হচ্ছে।

Standard
নেটওয়ার্কিং

হ্যাকার হওয়ার কাহিনী

সরাসরি অনুপ্রবেশ: আগে থেকে টার্গেট করা কোনো কোম্পানির মধ্যে সরাসরি প্রবেশ করা, আমি কখনোই পছন্দি করি না। এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ সম্পর্কে লিখতে গেলেও আমার ঘাম ছুটে যাচ্ছে।

কিন্তু আমি ছিলাম সেখানেই, এক বিলিয়ন ডলার কোম্পানির পার্কিং লটে সেই বসন্তের সন্ধ্যায়। সুযোগ খুঁজছিলাম। এক সপ্তাহ আগে আমি একবার ঘুরে গেছি এই অফিস বিল্ডিং। দিনের বেলায়। এসেছিলাম এক কর্মচারীর কাছে একটা চিঠি দিতে। আসল উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির কর্মচারীরা কোন ধরনের আইডি কার্ড ব্যবহার করে তা জানা। এসে দেখলাম এই কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের আইডি কার্ডে কর্মচারীর মাথার ছবি রাখে উপরে বামদিকে, তার নিচেই নাম, প্রথমে নামের দ্বিতীয়াংশ, পুরো বড় হাতের অক্ষরে। আর কোম্পানির নাম কার্ডের একদম নিচে, ব্লক লেটারে, লাল রঙে।

আমি সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে গেলাম এবং সেখান থেকে কোম্পানির লোগো কপি করলাম। সেই লোগো এবং আমার ছবির স্ক্যানড কপি নিয়ে ফটোশপে কাজ করে একটি আইডি কার্ড বানাতে আমার লাগল বিশ মিনিট। মোটামুটি দাড়িয়ে গেল সেই আইডি কার্ড। সেটিকে ঢুকালাম আইডি কার্ড হোল্ডারে, যা সহজেই মনোহারী দোকানে পাওয়া যায়। কাজ চলবে এতেই, কেউ প্রথম দেখায় সন্দেহ করবে না। আমি দুটি আইডি কার্ড বানালাম, একটা আমার জন্য, আরেকটা আমার এক বন্ধুর জন্য, যার সাহায্য আমার দরকার হতে পারে।

খবর হলো: আইডি কার্ড যে সবসময় হুবহু একই রকম হতে হবে তা না। শতকরা নিরানব্বুই ভাগ সময়ে কেউ আইডি কার্ডের দিকে একবারের বেশি তাকায় না। যতক্ষণ সেই কার্ডে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো যথাস্থানে থাকছে এবং দেখতে কম-বেশি আসল আইডি কার্ডের মতো লাগছে ততক্ষণ কোনো সমস্যা নেই – সেটি দিয়েই কাজ চলবে, যদি না কিছু অতিবিদ্বেষী প্রহরী কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়ত্বে থাকা কিছু কর্মচারী সেটিকে কাছ থেকে দেখতে চায়। আমার মতো জীবনযাপন করলে অবশ্যই এই বিপদে থাকতে হবে আপনাকে।

পার্কিং এলাকায় আমি সবার নজরের বাইরে থাকলাম, সেখান থেকেই দেখতে পেলাম কিছু লোক ধুমপানের জন্য বেরিয়েছে। তাদের সিগারেটের আগুন দেখা যাচ্ছে। শেষে ছয়জনের মতো লোক তাদের ধুমপান শেষ করে বিল্ডিঙে ফিরে যাচ্ছে একসাথে। বিল্ডিঙের পেছনের দিকে যে দরজা আছে সেটি দিয়ে কার্ড পাঞ্চ করে ঢোকা যায়। সবার কাছেই তাদের পাঞ্চ কার্ড আছে। এক লম্বালাইনে ঢুকতে হবে সেখানে। আমি এগিয়ে গিয়ে সেই লাইনের শেষে দাঁড়ালাম। আমার আগে যেজন আছে সে একটু পেছন ফিরে দেখে নিল। তারপর ঢোকার সময় তার কার্ড পাঞ্চ করে দরজাটা খুলে ধরে রাখল যাতে আমি ঢুকতে পারি। আমি মাথা নেড়ে ধন্যবাদ জানালাম।

এই কৌশল হলো ‘লেজানুসরণ’, লাইনের শেষে দাঁড়িয়ে ঢুকে যাওয়া।

ভেতরে ঢুকেই প্রথমে আমার নজরে পড়ল একটি পোস্টার। যেকেউ ঢুকলেই প্রথমে সেটি নজরে আসবে। নিরাপত্তা সম্পর্কিত পোস্টার এটি। তাতে বলা হয়েছে কেউ দরজা খুলে অন্যজনের জন্য দরজা ধরে রাখবে না; প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ কার্ড পাঞ্চ করে ঢুকতে হবে। কিন্তু জানেনই তো, সৌজন্য বলে কথা আছে না, সহকর্মীর জন্য কিছু করতে সবাই রাজি – তাই অন্যের জন্য দরজা খুলে ধরে থাকে অনেকেই।

বিল্ডিঙের ভেতরে করিডর ধরে হাঁটতে থাকলাম লোকদের পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে। আসলে আমি এসেছি এক ধরনের অনুসন্ধান চালাতে, আবিষ্কার করতে – এই অফিসের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ দেখতে। এই আইটি বিভাগ খুঁজে পেলাম মিনিট দশেক পর, এটি বিল্ডিঙের পশ্চিম অংশে। আমি হোমওয়ার্ক করেই এসেছিলাম এবং কোম্পানির নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারের নামও জানতাম। এটি বের করে ফেলেছি যে সেই নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারের থাকতে পারে পুরো নেটওয়ার্কের এডমিনিস্ট্রেররের ক্ষমতা।

হায়! যখন তার কাজের স্থলটি খুঁজে পেলাম তখন দেখলাম সেখানে ঢোকা যাচ্ছে না। সাধারন কিউবিকল নয় এটি, পুরো একটা রুম। দেয়ালে ঘেরা, দরজা বন্ধ। উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলে শব্দনিরোধক ছাদ করা হয়েছে, আর যে পার্টিশন এই রুমটি তৈরি করেছে তার উপর দিয়ে ইলেকট্রিক্যাল লাইন, বাতাস প্রবাহের জন্য ডাক্ট, ইত্যাদি আছে। একটু ফাঁকা আছে সেখানে।

আমি আমার সেই বন্ধুকে ফোন করলাম। তাকে দরকার এখন। ঘুরে সেই পেছনের দরজার কাছে গেলাম। তাকে ঢুকতে দিলাম দরজা খুলে। তাকে সাথে নিয়েই আইটি ডিপার্টমেন্টে ফিরে আসলাম। সে একটু দেখে নিয়েই আমার কাঁধে চড়ে বসল, তারপর উপরের ফাঁকা জায়গাটুকু দিয়ে নিজেকে গলিয়ে দিল ভেতরে। ধুপ করে মেঝেতে পড়ার শব্দ পেলাম আমি। ভেতর থেকে বন্ধ দরজা খুলে দিল সে। তার হাসিমুখ দেখতে পেলাম দরজায়।

আমি ঢুকলাম এবং নি:শব্দে দরজাটা বন্ধ করলাম। এখন আমরা একটু নিরাপদ, কেউ দেখার সম্ভাবনা কম। অফিস এখন অন্ধকার। এখানে একটি লাইট জ্বালানো বিপজ্জনক হতে পারে, তার দরকারও নেই। ইঞ্জিনিয়ারের কম্পিউটার থেকে যে আলোর ছটা বেরুচ্ছিল তাই যথেষ্ট ছিল। আমার দরকারমতো সবকিছু দেখতে পাচ্ছিলাম। আমি চটজলদি তার ডেস্কের এদিকওদিক তাকালাম, ড্রয়ারের উপরে দেখলাম কীবোর্ডের নিচে দেখলাম – উদ্দেশ্য কোথাও তার পাসওয়ার্ড লেখা আছে কি না তা দেখা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়। তবে সমস্যা নেই।

আমার থলে থেকে একটা সিডি বের করলাম যার মধ্যে আছে বুটেবল লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম, সেইসাথে হ্যাকার টুলকিট। সিডিটি ঢুকালাম সিডিরম ড্রাইভে, এরপর কম্পিউটারের সুইচ টিপে রিস্টার্ট করলাম। এর মধ্যে একটি টুল আমাকে যাহায্য করল সেই লোকাল কম্পিউটারের এডমিনিস্ট্রেটর একাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলাতে; সেটি বদলিয়ে এমন একটি পাসওয়ার্ড দিলাম যা আমি জানি এবং সেটি ব্যবহার করে আমি লগইন করতে পারি। এবার সিডি বের করে নিলাম এবং কম্পিউটার আবার রিস্টার্ট করলাম। কম্পিউটার চালু হলে লোকাল এডমিনিস্ট্রেট একাউন্ট দিয়ে লগইন করলাম।

খুব দ্রুতই আমি একটি রিমোট একসেস ট্রোজান ইনস্টল করলাম, যা আসলে পুরো সিস্টেমে আমার প্রবেশ নিশ্চিত করবে, যার মাধ্যমে আমি প্রতিটি কীস্ট্রোক লগ করতে পারব, পাসওয়ার্ড হ্যাশ পেয়ে যাবো, এমনকি ওয়েবক্যামকে নির্দেশ দিতে পারব কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা মানুষটির ছবি তুলে পাঠাতে। যে ট্রোজান আমি ইনস্টল করলাম সেটি কম্পিউটার চালুর সাথে সাথে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে আরেকটি সিস্টেমের সাথে যুক্ত হবে যাতে আমি এই কম্পিউটারে আমি পুরোপুরি ঢুকতে পারি এবং পুরো সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

প্রায় শেষ করে ফেলেছি, শেষ ধাপ হিসেবে আমি সেই কম্পিউটারের রেজিস্ট্রিতে গেলাম এবং last logged-in user হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারের ইউজারনেম বসিয়ে দিলাম যাতে কেউ আমার প্রবেশকে শনাক্ত করতে না পারে। সকালবেলা অফিসে এসে সেই ইঞ্জিনিয়ার হয়ত দেখবে সে লগআউট হয়ে আছে। তবে সমস্যা নেই, সে তার পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই সবকিছু আগের মতো দেখতে পাবে।

আমি এখন বেরুনোর জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে আমার সাথী উপরের টাইলস ঠিক করে দিয়েছে। আমি বেরুনোর সময় দরজার তালাটিও ঠিক করে দিয়ে আসলাম।

পরদিন সকালে সেই ইঞ্জিনিয়ার তার কম্পিউটার চালু করল সকাল ৮.৩০ নাগাদ। সেটি চালু করার সাথে সাথে তার কম্পিউটার যুক্ত হলো আমার ল্যাপটপের সাথে। এখন ট্রোজানটি তার একাউন্টের অধীনে চলছে বলে আমি পুরো ডোমেইনে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছি। আমার কয়েক সেকেন্ড লাগল ডোমেইন কন্ট্রোলার চিহ্নিত করতে, যাতে পুরো কোম্পানির সকল ইউজার একাউন্টের পাসওয়ার্ড আছে। fgdump নামের একটি হ্যাকার টুল ব্যবহার করে আমি প্রতিটি ইউজারের পাসওয়ার্ড হ্যাশ (উল্টোপাল্টা,অবোধ্য পাসওয়ার্ড) সংগ্রহ করলাম।

কয়েকঘন্টার মধ্যে আমি এসব পাসওয়ার্ড হ্যাশকে তুলনা করলাম রেইনবো টেবিলের সাথে, যাতে অসংখ্য পাসওয়ার্ড রয়েছে। এই টেবিলের সাথে তুলনা করে আমি বেশিরভাগ কর্মচারীর পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলাম। এরপরই আমি খুঁজে পেলাম ব্যাকএন্ড কম্পিউটার সার্ভার যা কাস্টমার ট্রানজ্যাকশন প্রসেস করে; সেখানে দেখলাম কাস্টমারদের ক্রেডিট কার্ড এনক্রিপ্টেড অবস্থায় আছে। সেটিও সমস্যা না: এসব কার্ড নম্বর এনক্রিপ্ট করার জন্য যে চাবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিকে পাওয়া গেল ডাটাবেজের মধ্যে রাখা এক স্টোরড প্রসেজিউরের মধ্যে। আর সেই ডাটাবেজ সার্ভারের নামও ছিল SQL Server, তাই বুঝতে কষ্ট হলো না, যেকোনো ডাটাবেজ এডমিনিস্ট্রেটর তাতে প্রবেশ করতে পারে।

লক্ষ লক্ষ ক্রেডিট কার্ড নম্বর এখন আমার হাতে। আমি প্রতিদিন প্রতিবার একটি নূতন কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করতে পারি, তারপরও ক্রেডিট কার্ড নম্বর শেষ হবে না।

কিন্তু আমি কিছুই কিনলাম না। এই সত্য ঘটনা এমনো কোনো হ্যাকিং না যার জন্য আমি আবার আলোচনায় এসেছি। আসলে আমাকে নিয়োগ করা হয়েছিল এই কাজটি করার জন্য।

আমরা একে বলি পেন টেস্ট, যা পেনিট্রেশন টেস্ট এর সংক্ষিপ্তরূপ; আর এখন আমার দিনের বেশিরভাগ সময় যায় এটি করতে। আমি বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও কঠিন কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করেছি, তাদের নেটওয়ার্কে ঢুকেছি – এটি করেছি তাদের অনুরোধে, তাদের কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিসমূহ খুঁজে বের করতে যাতে তারা এরকম হ্যাকিঙের শিকার না হয়। আমি মূলত স্বশিক্ষিত এবং বছরের পর বছর ব্যয় করেছি কম্পিউটার নিরাপত্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পদ্ধতি, প্রয়োগ ও কৌশল এবং কীভাবে কম্পিউটার সিস্টেম ও টেলিকম্যুনিকেশন সিস্টেম কাজ করে তা জানার জন্য।

প্রযুক্তি সম্পর্কে আমার প্রবল আবেগ ও আকর্ষণ আমাকে অনেক বন্ধুর পথে নিয়ে গেছে। হ্যাকিঙের বিভিন্ন ঘটনায় ধরা না পড়লেও এটি কেড়ে নিয়েছে আমার জীবনের পাঁচটি বছর, আমাকে কাটাতে হয়েছে জেলে; আমার ভালোবাসার লোকদের পেতে হয়েছে কষ্ট।

এটাই আমার কাহিনী; আমার স্মৃতি, নোটবই, কোর্টের রেকর্ড, এফবিআই-এর রেকর্ড, অনেক ইন্টারভিউ এবং আলোচনা থেকে যতটুকু মনে করতে পারছি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আছে এখানে।

এই গল্প আমার পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত কম্পিউটার হ্যাকার হয়ে ওঠার গল্প।

[Kevin Mitnick রচিত Ghost in the Wires: My Adventures as the most wanted Hacker in the world থেকে অনূদিত]

Ghost in the Wires: My Adventures as the World’s Most Wanted Hacker (Paperback)


List Price: $17.00 USD
New From: $8.32 USD In Stock
Used from: $5.07 USD In Stock

Standard
কবিতা, দর্শন

একাত্মতা ২

আত্মোপলব্ধি ঘটাতে পারে বিশাল বিপ্লব
প্রগতি ও প্রশান্তির পথে
সাফল্যে ও প্রাচুর্যের পথে
সমৃদ্ধি ও শান্তির পথে

ব্যক্তির আত্মোপলব্ধি
সামষ্টিক রূপ নিয়ে
বদলাতে পারে এই বিশ্ব

যখন নিজেকে সমর্পণ করছ প্রকৃতির কাছে
পুরোপুরি
শর্তহীনভাবে
কোনোরকম পুরস্কার কিংবা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই
তখনই এক মহাজাগতিক শক্তির প্রাবল্যে
বাস্তব রূপ নেবে চিন্তাসকল

Standard
অন্যান্য

ভালবাসার ম্যানিফেস্টো

১.
আমি জানি সকল প্রচেষ্টায় ভালবাসাই সাফল্যের গোপন রহস্য। মাংসপেশির শক্তি ভাঙতে পারে বর্ম এবং ধ্বংস করতে পারে জীবন কিন্তু কেবল ভালবাসার অদেখা শক্তিই পারে মানুষের হৃদয়কে উন্মুক্ত করতে এবং যতদিন না আমি এই শক্তিকে ব্যবহার করার বিদ্যা সম্পূর্ন আয়ত্ত্ব করতে পারছি ততদিন আমি সামান্য হয়েই থাকব। তাই আমি ভালবাসাকে আমার সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করব এবং যার বিপক্ষেই এটি ব্যবহার করি না কেন সে ভালবাসার শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না।
 
২.
অন্যরা আমার যুক্তিকে খন্ডন করতে পারে; আমার বাগ্মিতাকে অবিশ্বাস করতে পারে; আমার আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে; আমার চেহারাকে পাত্তা নাও দিতে পারে, আমার দরকষাকষি তাদের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে; তবু আমার ভালবাসা সকলের হৃদয়কে গলিয়ে দেবে, সূর্যের রশ্মি যেমন গলায় শীতলতম মাটিকেও।
 
৩.
আজ থেকে আমি সবকিছুকে ভালবাসার দৃষ্টিতে দেখব এবং এভাবেই আমার নূতন জন্ম হবে। আমি সূর্যকে ভালবাসব, কারণ এটি উত্তাপ দিয়ে আমাকে উষ্ঞ রাখে; তারপরও আমি বৃষ্টিকে ভালবাসব কারণ এটি আমার আত্মাকে পরিষ্কার করে। আমি আলোকে ভালবাসব, কারণ এটি আমাকে পথ দেখায়; তারপরও আমি অন্ধকারকে ভালবাসব, কারণ এটি আমাকে দেখায় আকাশের তারা। আমি সুখকে স্বাগত জানাব কারণ এটি হৃদয়কে প্রসারিত করে, তবু আমি দু:খকে সহ্য করব কারণ এটি আমার আত্মাকে উন্মুক্ত করে। আমার প্রাপ্য হিসেবে পুরস্কারকে আমি গ্রহণ করব; তবে পথের বাধাসমূহকেও আমি গ্রহণ করব সানন্দে যা আমাকে মুখোমুখি করে দিয়েছে বাধা অতিক্রমের।
 
৪.
আমার শত্রুর প্রশংসা করব আমি, তাতে তারা পরিণত হবে বন্ধুতে; আমি উৎসাহ যোগাব বন্ধুদের, তারা পরিণত হবে আমার ভাইয়ে। সবসময় আমি প্রশংসা করার কারণ খুঁজব; কখনোই সমালোচনার ছুঁতো খুঁজব না। কখনো সমালোচনা করতে উদ্যত হলে কামড় দেব নিজের জিহ্বায়; এরপর প্রশংসা করতে গেলে আমি বলব তা চিৎকার করে।
 
৫.
আমি মানুষের সব আচরণকেই ভালবাসব, কারণ আমি জানি প্রত্যেকের মধ্যেই আছে কিছু সদগুনাবলী, যদিও কখনো কখনো তা থাকে লুক্কায়িত। ভালবাসা দিয়ে সন্দেহ ও ঘৃণার দেয়ালকে ভেঙে ফেলব যা তারা গড়ে তুলেছে তাদের হৃদয়ের চারপাশে, সেইস্থানে আমি গড়ে তুলব এক সেতু যার মাধ্যমে আমার ভালবাসা পৌঁছাতে পারে তাদের হৃদয়ে।
 
৬.
আমি ভালবাসব উচ্চাকাঙ্ক্ষীকে, কারণ সে আমাকে অনুপ্রাণিত করে; আমি ভালবাসব ব্যর্থ মানুষকেও, কারণ তাকে দেখে আমি শিখতে পারি। আমি রাজাদের ভালবাসব, কারণ তারাও মানুষ; আমি ভীরুদের ভালবাসব কারণ তারা স্বর্গীয়। আমি ধনীদের ভালবাসব, কারণ এত থেকেও তারা একাকী; আমি গরীবদের ভালবাসব কারণ তারা সংখ্যায় অধিক। আমি তরুণদের ভালবাসব তাদের নূতন বিশ্বাসের জন্য; আমি বয়স্কদের ভালবাসব তাদের প্রজ্ঞার জন্য। আমি সুন্দরকে ভালবাসব তাদের চোখের কোণে লুকানো বেদনার জন্য; আমি কুৎসিতকে ভালবাসব তাদের আত্মার শান্তির জন্য।
 
৬.
আমি অন্যের আচরণে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করব ভালবাসা দিয়ে। ভালবাসা আমার অস্ত্র যা দিয়ে আমি জয় করতে পারি অন্যকে, তেমনি ভালবাসা আমার বর্ম যার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করব অন্যের ঘৃণা ও রাগের তীর থেকে। হতাশা এবং কষ্ট আমাকে করতে পারবে না আঘাত; আমার ভালবাসার বর্মে এসে তা ঝরে পড়বে কোমল বৃষ্টি হয়ে। আমার এই নূতন বর্ম আমাকে রক্ষা করবে সর্বক্ষণ এবং আমাকে রক্ষা করবে যখন একাকী। সাময়িক হতাশার সময় এটি আমাকে উজ্জীবিত করবে, আর অতি আত্মবিশ্বাসের সময় এটি আমাকে শান্ত করবে। প্রতিদিন ব্যবহারে এই বর্ম আরো শক্তিশালী হবে এবং এটি আরো বেশি প্রতিরক্ষা দেবে। তারপর একদিন আসবে যখন আমি কোনো বর্ম ছাড়াই হেঁটে যাব এবং সকল স্তরের লোক আমাকে ভালবেসে অভিবাদন জানাবে, সেইদিনই আমি হবো এক মহান মানুষ।
 
৬.
যার সংস্পর্শেই আসি না কেন নীরবে এবং নিজের প্রতি বলব তাকে উদ্দেশ্য করে, ‘আমি ভালবাসি তোমাকে।’ নীরবে বললেও এই কথাগুলো চকচক করবে আমার চোখে, ফুটে উঠবে আমার চোখের ভ্রুতে, হাসি আনবে আমার ঠোঁটে, এবং প্রতিধ্বনি তুলবে আমার কণ্ঠস্বরে; এবং এভাবেই তার হৃদয় হবে উন্মুক্ত। আর আমার ভালবাসা অনুভব করার পর কেইবা না বলতে পারবে?
 
৭.
সর্বোপরি আমি ভালবাসব নিজেকে। কারণ তা করতে পারলে আমি যত্নবান হবো আমার প্রতি, যাচাই করে দেখব কী ঢুকছে আমার শরীরে, আমার মনে, আমার আত্মায় এবং আমার হৃদয়ে। আমি কখনোই আমার দেহের চাহিদায় উন্মাদ হবো না, বরং আমি দেহের পবিত্রতার দিকে নজর দেব, সংযম পালন করব। কখনোই আমার মনকে দুষ্ট ও হতাশার দিকে আকৃষ্ট হতে দেব না; বরং আমি মনকে উজ্জীবিত করব সহস্র বছরের জ্ঞান ও প্রজ্ঞায়। আমার আত্মাকে কখনো হতে দেব না অহংকারী; বরং আমি একে শান্ত করব ধ্যান ও প্রার্থনায়। আমার হৃদয়কে হতে দেব না ক্ষুদ্র ও তিক্ত, বরং এটিকে আমি ভাগ করে নেব অন্যদের সাথে, তাতেই বাড়বে হৃদয়ের প্রশস্ততা এবং ছড়াবে উষ্ঞতা এই পৃথিবীতে।
 
৮.
আমি ভালবাসব সব মানুষকে। এই মুহূর্ত থেকে আমার ধমনী দিয়ে বেরিয়ে যাবে সমস্ত ঘৃণা, কারণ আমার সময় নেই ঘৃণা করার; আমার সময় আছে কেবল ভালবাসবার। এই মুহূর্ত থেকে আমি প্রথম কাজটি করছি অনেক মানুষের মধ্যে নিজেকে বিশেষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। ভালবাসা দিয়ে আমি বাড়াব আমার সমৃদ্ধি। আমার অন্য কোনো গুণ না থাকলেও কেবল ভালবাসা দিয়ে সফল হবো আমি। আর এই ভালবাসা না থাকলে আর সকল জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়েও ব্যর্থ হবো আমি।
 
৯.
আমি প্রতিটি দিনকে, প্রতিটি মানুষকে অভিনন্দিত করব হৃদয়ের ভালবাসা দিয়ে।
Standard
কবিতা, দর্শন

একাত্মতা -১

প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণে
দেখতে পাবে জগৎকে ভিন্ন দৃষ্টিতে
সঙ্কীর্ণ চিন্তার বদলে দেখতে পাবে বৈশ্বিক রূপ
আর তখনই বুঝতে পারবে
তুমি এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়নক
এই মহাবিশ্বে
প্রতিটি অনু ও পরমাণুতে
প্রতিটি গ্রহ নক্ষত্রের গতি ও ঘূর্ণনে

তখনই অনুভব করবে সেই শক্তির প্রাবল্য
যা অসীম, অনন্ত
সময়, অপরিসীম
সৃষ্টির আদি ও অন্ত

অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ
জৈবিক ও অজৈবিক সৃষ্টি
কর্ম ও ফল
আবেগ, নিরাবেগ
রাগ ক্রোধ ভালবাসা

সীমাবদ্ধ সময় থেকে শুরু হয় পরিভ্রমণ
অনন্তের পথে
ভেঙে সব নিয়ম
পদার্থবিদ্যা
গতিবিদ্যা
আপেক্ষিকতার

ক্রমশ দীর্ঘ পথ
প্রবহমান জীবনের ধারা
জন্ম ও মৃত্যুর বাইরে
প্রকৃতির সাথে
পুরোপুরি একাত্ম হয়ে
অনুভব করবে সেই শক্তি
যা ধ্বংস করতে পারে এই পৃথিবী
সৃষ্টি করতে পারে এই মহাবিশ্ব

Standard
দর্শন

আমার দু:খের জন্মের সময়

আমার দু:খের জন্ম হলে আমি তার যত্ন নিলাম, তার দিকে তাকালাম পরম মমতায়।

আমার দু:খ বেড়ে উঠল অন্যান্য জীবের মতো, হয়ে উঠল শক্ত ও সুন্দর, আর অদ্ভূত ভাললাগায়।

আমরা একে অপরকে ভালবাসলাম, আমার দু:খ আর আমি, আমাদের চারপাশের সবকিছুকে একসাথে ভালবাসলাম; আমার প্রতি দু:খের মমতা, আমার দু:খের প্রতি আমার মমতার কমতি ছিল না।

এবং আমরা যখন পরস্পরের সাথে কথা বলতাম তখন আমাদের দিন ও রাত্রি ভরে উঠত অদ্ভুত স্বপ্নে; আমার দু:খের ছিল এক বাক্যবাগীশ জিহ্বা, আর আমারও তেমনি ছিল দু:খের প্রতি।

আর আমরা যখন একসাথে গান গাইলাম, আমার দু:খ ও আমি, আমার প্রতিবেশিরা জানালার পাশে বসে শুনল সেই গান; কারণ আমাদের এই গান ছিল সমুদ্রের মতো গভীর আর সুর ছিল অসামান্য স্মৃতিময়।

আর আমরা যখন একসাথে হাঁটতাম, আমার দু:খ ও আমি, লোকজন তাকাত করুণভাবে, মমতায়, আর মধুর স্বরে ফিসফিস করত নিজেরাই। কেউ কেউ হিংসে করত, মনে হতো দু:খ এক মহান জিনিস, আর আমি গর্বিত এই দু:খকে পেয়ে।

কিন্তু একদিন আমার দু:খ গেল মরে, সকল জীব যেমন মরে; আমি একা নিস্তব্ধ, নিথর – চিন্তায় লীন রইলাম পড়ে।

এখন আমি কথা বলতে গেলেই শব্দগুলো ভারী পাথরের মতো চাপা দেয় আমাকেই।

আর যখন গান গাই, প্রতিবেশিরা আসে না শুনতে তা মোটেও।

যখন হাঁটি রাস্তায়, তাকায় না কেউ আমার দিকে।

ঘুমের মধ্যে কেবল শুনি, কেউ কেউ করুণা করে বলছে, “ওই দ্যাখো, সেই লোক, যার দু:খ গেছে মরে।”

Standard
অন্যান্য

কাকতাড়ুয়া / কাহলিল জিবরান

একদিন এক কাকতাড়ুয়াকে বললাম, “এই একাকী প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকতে নিশ্চয় তুমি ক্লান্ত হয়ে গেছ।”

কাকতাড়ুয়া বলল, “অন্যকে ভয় দেখানোর আনন্দ অনেক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী, তাই আমি এটি করতে ক্লান্ত হই না।”

এক মিনিট চিন্তা করে বললাম, “সত্য বটে, আমিও পেয়েছি এই আনন্দ।”

সে বলল, “তাদের অভ্যন্তরে গাদা আছে খড় তারাই শুধু বুঝতে পারে এটা।”

সে আমার প্রশংসা করল নাকি বিদ্রুপ সেটি বুঝতে না পেরে আমি চলে আসলাম।

এক বছর চলে গেছে, এর মধ্যে কাকতাড়ুয়া পরিণত হয়েছে দার্শনিকে।

এবার আবার যখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছি, তখন দেখি দুটি কাক বাসা বেঁধেছে তার টুপির নিচে।

Standard